হুইলচেয়ারে কলেজে গেল সেই ইয়াসার, স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার

শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে কলেজে ভর্তি হয়েছে ইয়াসার ইসলাম নিরব। ছবি: আগামীর সময়
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে কলেজে ভর্তি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সেই ইয়াসার ইসলাম নিরব। বাঁকা কবজি দিয়ে বাম হাতে লিখে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে সে।
আজ সোমবার সকালে দরিদ্র কৃষক বাবা সিরাজুল ইসলাম হুইলচেয়ারে করে তাকে ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে নিয়ে যান।
কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ হুইলচেয়ারে বসে থাকে ইয়াসার। এ সময় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার সাফল্যের গল্প শোনেন। পরে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে বাবা হুইলচেয়ার ঠেলে তাকে বাড়ি নিয়ে যান।
ইয়াসারের বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামে। বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন তাকে কলেজে আনা-নেওয়া করা পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য। ফুলবাড়িয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার সামর্থ্যও নেই তাদের।
ইয়াসারের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইয়াসার অনেক মেধাবী। একদিনও প্রাইভেট পড়াইনি। এসএসসি পাস করার পর তার একটাই আবদার ছিল, যেকোনো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করিয়ে দিতে হবে। সে ডাক্তার হতে চায়। তাই কষ্ট হলেও কলেজে ভর্তি করিয়েছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিদিন হুইলচেয়ারে করে কলেজে নিয়ে আসা সম্ভব হবে না। যতদিন পারি বাড়ি থেকে নিয়ে আসব। ক্লাস শেষে আবার বাড়ি নিয়ে যাব। ইয়াসার অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা কিছু করতে পারে না।’
সিরাজুল ইসলাম ও খাদিজা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান ইয়াসার। জন্মগতভাবে তার দুই হাতের কবজি বাঁকা। ছোটবেলা থেকেই নানা চিকিৎসা করিয়েছেন তার বাবা-মা। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি। একা চলাফেরা করতে পারে না ইয়াসার। দৈনন্দিন কাজেও অন্যের সহযোগিতা নিতে হয়।
ছোটবেলায় বাবা-মা কোলে করে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন। ছুটির পর আবার নিয়ে আসতেন। বাঁকা কবজি দিয়েই লেখাপড়া চালিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল করেছে সে।
গত ১২ আগস্ট আগামীর সময়ে ‘দুই কবজি বাঁকা থামেনি কলম’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইয়াসারের বাড়িতে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার। তিনি তাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান এবং আর্থিক সহায়তা করেন। পরদিন ‘ইয়াসারের পাশে প্রশাসন’ শিরোনামে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয় আগামীর সময়ে।
ইয়াসারের পাশে প্রশাসন
১৩ আগস্ট ২০২৬
ইয়াসার ইসলাম নিরব বলেছেন, ‘কলেজে ভর্তি হতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। কলেজ থেকে বাড়ি অনেক দূরে। তাই হয়তো প্রতিদিন ক্লাস করতে পারব না। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া প্রায় সব কাজই করতে হয়। আমাদের পরিবার দরিদ্র। ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করার সামর্থ্য নেই। তবে আমার বিশ্বাস, আমি ডাক্তার হব। সবাই দোয়া করবেন, যেন চিকিৎসক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি।’
ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোপাল চন্দ্র সরদার বলেছেন, ‘ইয়াসার অনেক মেধাবী। শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি। সে আমাদের কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার স্বপ্ন পূরণে কলেজের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’





