তনু হত্যায় প্রথম আসামি গ্রেপ্তার, যা বললেন বাবা

সংগৃহীত ছবি
আলোচিত তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। তাকে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ এপ্রিল) এ আদেশ দেন কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক।
হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন এ মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। রাজধানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা আদালতে নেওয়া হয় হাফিজুর রহমানকে।
এর আগে ৬ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন— সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন আদালতের।
বুধবার বিকাল ৫টার দিকে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, তনুর মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন যান আদালতে। সেখানে জবানবন্দি দেন তনুর মা-বাবা।
আদালতের বাইরে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও প্রশাসন আসামি গ্রেপ্তার করেছে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ। শুকরিয়া মহান আল্লাহর কাছে। এখন আমার বিশ্বাস, আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাব। ইনশাআল্লাহ। আমি চাই বাকি আসামিরাও দ্রুত গ্রেপ্তার হোক।
এদিকে তনুর ছোট ভাই রুবেল হোসেনের ভাষ্য, ‘দীর্ঘদিন পর মামলার অগ্রগতি হওয়ায় আমার পরিবার নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা দেখছে। এখন আমরা বিশ্বাস করি আমার বোন হত্যার বিচার পাব। আমিও বাবার মতো চাই, বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হউক।’
এ পর্যন্ত তনু হত্যা মামলার ধার্য তারিখ পার হয়েছে ৮০টি। মামলাটি পরিচালনা করেছেন ৪টি সংস্থার ৭ তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে পাওয়া যায় তার মরদেহ। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

