মানিক পশারীর দাফনে বাধা : ৫ দিন পর মুখ খুলল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

ছবি: আগামীর সময়
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড। তার মৃত্যুর পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক, সাবেক আর্মির সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ও বীর প্রতীক সোলাইমান মল্লিক, জেলা কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য রাজ্জাক সরদার, সদস্য আব্দুল মান্নান ধরানী, সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী সরদার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বক্তারা বলেন, মানিক পশারী একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানো উচিত। এ ধরনের আপত্তিকে কেন্দ্র করে তার প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দাফনপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুরে আসার পর প্রশাসন তাকে গার্ড অব অনার দিতে গেলে একদল লোক বাধা দেয়। তিনি মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তার হাত থেকে ফুল নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আহমেদ শহিদুল হক বলেন, একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর তার পরিণতি কী হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু কিছু লোক কীভাবে বলতে পারে, পিরোজপুরের মাটিতে তার দাফন হতে দেওয়া হবে না? এটি সম্পূর্ণ অইসলামিক ও ইসলামবিরোধী। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা এ ধরনের আচরণের বিরোধিতা করছেন।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র বলেন, কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে মুক্তিযোদ্ধা নন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তার প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানিক পশারীকে প্রথমে তার বাড়িতে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হলেও পরে তা ভরাট করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পৌর কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, একটি রাজনৈতিক দলের তালিকাভুক্ত কয়েকজন কর্মীকে এ ঘটনার সময় সামনের সারিতে দেখা গেছে এবং পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে না দেওয়ার বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে।
গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।




