সকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, রাতে ৬ বালুমহালে ছাত্রদলের হামলা-ভাঙচুর

লক্ষ্মীপুরে ছয়টি বালুমহালের পাঁচটি কার্যালয় ও একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের। তবে হামলায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত শনিবার রাতে মোটরসাইকেলে করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাট এলাকার বালুমহালগুলোতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। বালুমহালগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মালিকানা রয়েছে বলে হামলার শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেছেন।
সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় আমার বালুমহালের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় বিক্রির টাকা, সিসিটিভি ক্যামেরা, মনিটর, হার্ডডিস্ক ও খাতাপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করা হয়।
জামাল হোসেনের বললেন, এ হামলার সঙ্গে ছাত্রদল জড়িত বলে জানতে পেরেছি। পরে সদর পশ্চিম ছাত্রদলের সেক্রেটারী মিজানকে কল দিয়েছি, সে বলেছে তার জানা নেই, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভকে কল দিতে বলে। পরে সৌরভকে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। আরও কয়েকটি বালু মহালে হামলা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ হামলায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শনিবার সকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাননি। সন্ধ্যায় ফের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বালুমহাল এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান। তবে বালুমহালে হামলার সঙ্গে ছাত্রদল জড়িত নয়। ঘটনাটিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাজানো নাটকও হতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলটি শনিবারের নয়। অন্য কোনো দিন মিছিল করে তার পুরোনো ভিডিও শনিবার ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে। মিছিলের কথিত ঘটনাস্থলে পুলিশ টহলে থাকায় এমন ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার সকালে মজুচৌধুরীরহাট সড়কের সাইফিয়া দরবার শরিফ এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘প্রত্যাবর্তন-২.০’ ব্যানারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মোহাম্মদ আল হাসিবের উদ্যোগে একটি ঝটিকা মিছিল হয় বলে জানা গেছে। পরে মিছিলের ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই মিছিলকে কেন্দ্র করেই বালুমহালগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার সঙ্গে মিছিলের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




