খেলার মাঠ থেকে মন্ত্রিসভায় সাচিং প্রু জেরী

বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাচিং প্রু জেরী
প্রতিমন্ত্রী পিতার পথ ধরে চরম ধৈর্য আর বিচক্ষণতা দিয়ে খেলার মাঠ থেকে মন্ত্রিসভায় পৌঁছে গেলেন বান্দরবানের বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাচিং প্রু জেরী।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দলের রাজনীতি এবং নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থার পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
গতকাল শুক্রবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের বিশিষ্ট রাজনীতিক ও দৈনিক সচিত্র মৈত্রীর সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওসমান গণি বলেন, একসময় খেলার মাঠ থেকে যে শৃঙ্খলার দীক্ষা তিনি পেয়েছেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপমন্ত্রীর মর্যাদায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।
অধ্যাপক ওসমান গণি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেরর তিনটি আসন থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে বর্ষীয়ান এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থাকার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে মন্ত্রিত্ব না পেয়ে তিনি দল ও দলীয় নেতার প্রতি যে অবিচল আস্থা রেখেছেন, সেটাই তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাচিং প্রু জেরী বলেন, আমার বাবা সাবেক প্রতিমন্ত্রী অংশৈপ্রু চৌধুরী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতি অবিচল আস্থাবান ছিলেন। আমাদের পুরো পরিবার তার পথ অনুসরণ করে আসছি।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশৈপ্রু চৌধুরী কাজ শুরু করেছিলেন। আমি তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে পাহাড়ের সব জাতিসত্তা ও সব ধর্মের অনুসারীদের নিয়ে এক শান্তিময় পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলব।
বিশিষ্ট বম নেতা ও পুনর্গঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য রিয়ালদাও বম বলেন, সাচিং প্রু জেরীর মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি নিয়ে কোনো বিভেদ লক্ষ করিনি। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে তিনি সবারই নেতা।
রিয়ালদাও বম বলেন, বোমাং রাজপরিবারের একজন উত্তরাধিকারী হয়েও সাদামাটা জীবনাচরণ দিয়ে তিনি সবাইকে মুগ্ধ করতে পেরেছেন।
১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ) নির্বাচনেও বিপুল ভোট পেয়ে তিনি উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ নম্বর (বান্দরবান) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিপুল ভোট পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।






