কাদা দিয়ে সড়ক ভরাটে দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মাণ হচ্ছে এলজিইডির নতুন সড়ক। কিন্তু কাজের শুরুতেই উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ফসলি জমি ও পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে তোলা কাদা মাটি দিয়ে সড়ক ভরাট করায় সুবিধার বদলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। এতে যেমন নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি সড়কের স্থায়িত্ব ও আশপাশের পরিবেশ নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বটতলী এলাকায়। সড়ক দুটি হলো বটতলী মাদ্রাসা থেকে জমাদার বাড়ি পর্যন্ত এবং আব্দুল হক বেপারী বাড়ির সামনে দিয়ে দত্তপাড়া-মান্দারী বাজার সংযোগ সড়ক।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, আলাদা দুই ঠিকাদার সড়ক দুটির কাজ পেয়েছেন। আব্দুল হক বেপারী বাড়ির সামনের সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার এবং জমাদার বাড়ির সড়কটির দৈর্ঘ্য ৯৫০ মিটার। দুটি সড়ক পরস্পর সংযুক্ত। এর মধ্যে জমাদার বাড়ির সড়কের কাজ করছে আবুল বাশার ওরফে বসু কোম্পানি। অপর সড়কের কাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে করছেন স্থানীয় করিম, রিপনসহ কয়েকজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক দুটির বক্স কাটার পর পাশের ফসলি জমি ও পুকুরে ড্রেজার বসিয়ে কাদাযুক্ত বালু উত্তোলন করে ফেলা হচ্ছে সড়কে। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ঠিকাদার জানিয়েছেন, নতুন সড়ক নির্মাণে বক্স কাটার পর সেখানে অবশ্যই ফ্রেশ বালু ব্যবহার করতে হয়। কাদাযুক্ত বালু ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অধিক লাভের আশায় সংশ্লিষ্টরা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন বলে তাদের দাবি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজিংয়ের কারণে আশপাশের বাড়িঘর ও জমি ক্ষতির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে কাদাযুক্ত বালু ব্যবহারের কারণে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, জমাদার বাড়ির সড়কের ঠিকাদার আবুল বাশারের নির্দেশেই পাশের ক্ষেত ও পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করে ফেলা হচ্ছে সড়কে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আবুল বাশার বলেছেন, ‘অল্প পরিমাণ বালু উত্তোলন করে সড়কে ফেলা হয়েছিল। শুক্রবার দুপুরের পর ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি অংশে ফ্রেশ বালু ব্যবহার করা হবে।’
অন্য সড়কের দায়িত্বে থাকা রিপন হাসান দাবি করেছেন, কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য প্রায় ৪৯ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তার ভাষ্য, কাদামাটি ব্যবহার করলে সড়কের ভিত্তি আরও শক্ত হবে। এজন্য নিজেদের জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে কাদাবালু উত্তোলন করে ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকৌশলীরাও জানেন বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী কেশব চন্দ্র দের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।




