তারাগঞ্জ
সাত কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের তারাগঞ্জের ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল পড়ে আছে। সড়কটির পিচ ও কার্পেটিং উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
সরেজমিন দেখা যায়, ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে মাটি ও খোয়া বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেক গর্ত বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ফলে এর বিভিন্ন অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় পিচ-কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সয়ার, মাদারগঞ্জ ও আলমপুর এলাকার বাসিন্দাদের সৈয়দপুরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেলচালকদের ভোগান্তি বেশি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় যানবাহনের চালকেরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এতে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি বাড়ছে যানবাহন মেরামতের খরচ।
এ বিষয়ে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধোলাইঘাট থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি আমরা সরেজমিন দেখেছি। রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিষয়টি তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।’
তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, ‘আলমপুর ইউনিয়নের ২০০১ ও ২০০৫ নম্বর কোডের সড়ক দুটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।’




