ছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের বদলে টিসি ভুক্তভোগীকে

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মারার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে চলছে সমালোচনা।
গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে এক কিশোর এসে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে লাথি মারে। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করলে তাকে আবারও লাথি দেওয়া হয়। পাশে থাকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ঘটনাটি ঘটে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়সংলগ্ন ওয়াকওয়েতে। ওই সময় কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী সেখানে ছিল। অভিযুক্ত কিশোর পেছন থেকে এসে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে।
ওই স্কুলছাত্রীর বাবা একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্ত কিশোরের বয়স প্রায় সাড়ে ১৩ বছর। সে কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকে। তার বাবা রিকশাচালক এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক।
এদিকে অভিযুক্ত কিশোরকে স্থানীয় সালিশে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের হলেও সম্প্রতি ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তার মেয়েকে স্কুল চলাকালে বিদ্যালয়ের বাইরে যাওয়ার অভিযোগে শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে টিসি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেয়েকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





