‘ফসল রক্ষায়’ কাটা হলো ফসলরক্ষা বাঁধ

ছবিঃ আগামীর সময়
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নে টগার হাওর। সেখানে বোরো আবাদ করেন ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার কয়েক ইউনিয়নের কৃষক। ফসল রক্ষায় হাওরে দেয়া আছে বাঁধ। এর কারণে জলাবদ্ধতা, তলিয়ে গেছে ফসল- এমন অভিযোগে বাঁধটি কেটে দিয়েছেন কৃষকরা। এমন কাণ্ডে হতবাক পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা। প্রশাসন খুঁজছে জড়িতদের।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইকিং করে বাঁধ কাটার আহ্বান জানানো হয় কৃষকদের। হাজারখানেক কৃষক শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জড়ো হয়ে টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধটি কাটতে শুরু করেন। পুলিশ গিয়ে নিষেধ করলেও থামেননি তারা। বাঁধ কেটে ফেলার পর নামতে থাকে হাওরের পানি।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ও পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম পরিদর্শন করেন ঘটনাস্থল। জানালেন, বাঁধ না থাকায় এখন হাওরে বাইরের পানির প্রবেশ ঠেকাতে পোহাতে হবে বেগ।
টগার হাওরে ধর্মপাশা উপজেলার ১৮ হাজার ২৯০ হেক্টর ও মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে হয়েছে বোরো ধানের চাষ। কৃষকরা বলছেন, বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি জমে হাওরে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এরইমধ্যে তলিয়েছে দুই উপজেলার ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল। বাঁধ কাটার জন্য তারা প্রশাসনের কাছে এর আগে জানিয়েছিলেন দাবি, যা হয় নাকচ।
‘গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইকিং করে লোকজনকে বাঁধে এসে তা কেটে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পাইকুরাটি ও চামরদানি ইউনিয়নের কৃষকরা জড়ো হয়ে বাঁধটি কাটা শুরু করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পাউবোর কর্মকর্তাকে অবগত করি এবং কৃষকদের নিষেধ করি। কিন্তু কেউ তা শুনেনি’- বলছিলেন কাইল্যানি হাওরের ৫৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি সবক্ত গীণ।
ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে আছেন সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। ‘সুমেশ্বরী ও বৌলাই নদী সংযোগস্থল এই হাওর। নদীতে পানির চাপ বাড়লে বাঁধের কেটে দেওয়া অংশ মেরামত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বাঁধটি কাটা উচিত হয়নি’- মনে করেন তিনি।
‘প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া বাঁধটি কাটা হয়েছে। যে বা যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’- ঘোষণা ধর্মপাশার ইউএনও জনি রায়ের।















