নওগাঁ
ডাবের ফাঁদে সর্বস্ব লুট

ছবি: আগামীর সময়
প্রথমে ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশানো হয়। এরপর কৌশলে সেই ডাব খাওয়ানো হয় অটোরিকশা চালককে। চালক জ্ঞান হারালে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয় দুর্বত্তরা।
নওগাঁয় এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং চেতনানাশক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতারক চক্রের টার্গেট করে এক রিকশাচালকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। নিজেদের পরিবারে নবজাতকের জন্ম হয়েছে এমন কথা বলে প্রথমে মিষ্টি খাওয়ায়। পরে তারা চালককে একটি ডাব পান করতে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাবের পানিতে পূর্ব থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সুযোগে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে নওগাঁ সদর মডেল থানাকে মামলা গ্রহণ এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে নওগাঁ সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১২ জুলাই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাদের নওগাঁ নিয়ে আসা হয়। একই অভিযানে গাইবান্ধা জেলা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের হুমায়ুন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া গ্রামের খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই গ্রামের আব্দুল গফুর (৪১)।
অভিযানে ইব্রাহীমের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি রিভোট্রিল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। হুমায়ুনের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক মিশিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের অজ্ঞান করে নগদ অর্থ, যানবাহন ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে আসছিল।





