মাঝরাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা, চরম দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজটের। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার, নবীনগর সড়কে ৫ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইল রোডে ২ কিলোমিটারসহ মোট প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝরাস্তায় আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ছুটি হওয়ার কারণে মহাসড়কে হঠাৎ এই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। গত সোমবার প্রায় ৪২ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ার পর, মঙ্গলবার একদিনেই আরও প্রায় ৪৩ শতাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে লাখ লাখ শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী একযোগে বাড়ির পথে রওনা দিলে সকাল থেকেই যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও নাজুক রূপ নেয়। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি থমকে থাকে। যাত্রীদের তথ্যমতে, কোথাও কোথাও মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।
যানজটের কারণে বাসের ভেতরেই দুর্বিষহ সময় কাটছে সাধারণ মানুষের। উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী শামসুল হাসান বললেন, 'কোনাবাড়ী থেকে গাড়িতে ওঠার পর কয়েক ঘণ্টা পার হলেও খুব বেশি দূর যেতে পারিনি। সামনে আরও অনেক পথ বাকি।'
টাঙ্গাইলগামী যাত্রী সুলাইমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন, 'অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েও ঠিকমতো গাড়ি চলছে না। যানজটের কারণে মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।' এদিকে বৃষ্টির মধ্যে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। জামালপুরগামী যাত্রী শামীমা আক্তার জানান, বৃষ্টির মধ্যে ছোট শিশু নিয়ে গাড়িতে বসে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যানজটের কারণে ঈদযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এই বাড়তি চাপের সুযোগ নিয়ে অনেক পরিবহন চালক ও সহকারী স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছেন। তবুও ঈদে বাড়ি ফেরার তীব্র তাড়নায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই টিকিট কাটছেন তারা। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ এবং সঙ্গে যোগ হওয়া বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ফলে যানজট ক্রমান্বয়ে দীর্ঘ হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেছেন, 'অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় যানজট দীর্ঘ হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।'






