সিলেটে পৃথক হামলায় মা ও যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ২

নিহত আক্তার হোসেন
সিলেটের জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জে পৃথক সহিংসতার ঘটনায় এক নারী ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। জকিগঞ্জে জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া ও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলের হামলায় মা পিয়ারা বেগম (৬৩) নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন আক্তার হোসেন (৩০)। এসব ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জকিগঞ্জে নিহত পিয়ারা বেগম পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া ও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছেলে সুমন আহমদ (৩২) সুপারিগাছের রুইল দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
এতে পিয়ারা বেগম, তার সৎমা কুটিনা বেগম (৪৫), ভাই শাহীন আহমদ (৩৮), ভাবি শাহানা বেগম (৩২) এবং আড়াই বছর বয়সী শিশু ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার মধ্যরাতে পিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, সুমন কয়েক দিন ধরে টাকা দাবি করার পাশাপাশি বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। এর আগেও তিনি তার সৎমা কুটিনা বেগমকে রুইল দিয়ে আঘাত করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নেশার টাকার জন্য তিনি নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতেন।
এ ঘটনায় শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার পরপরই সুমনকে তার বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জকিগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হত্যা-সংক্রান্ত ধারা সংযোজন করা হবে। সুমনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দুপরিরপাড় গ্রামে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আক্তার হোসেন নিহত হয়েছেন। তিনি গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আক্তার হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেন একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী মৃত আব্দুল হালিমের সন্তান ও আত্মীয়স্বজন তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাড়ি ফেরার পথে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্তার ও জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালায়।
এতে আক্তার গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরও আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার অভিযোগে জুয়েল আহমদ (২৮) নামে একজনকে আটক করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশ। তিনি একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উছমান গণি জানান, পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরপর দুই ঘটনায় সিলেটের জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ এবং মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



