গাবুরা বাজারে ৪ ঘণ্টায় বিক্রি হয় কোটি টাকার টমেটো
- প্রতিদিন বিক্রির পরিমাণ আড়াই কোটি
- টমেটোর বাজার ঘিরে কর্মসংস্থান হাজার যুবকের
- মৌসুম শেষে বাণিজ্য পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড়শ কোটিতে

দিনাজপুর সদর উপজেলার গর্ভেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা গাবুরা বাজার। এই বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার টমেটো বিক্রি হয়। ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুর সদর উপজেলার গর্ভেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা গাবুরা বাজারে ভোর হলেই শুরু হয় টমেটো কেনাবেচার ব্যস্ততা। ভ্যান বোঝাই লাল টকটকে টমেটো নিয়ে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গেই বাজারে হাজির হন কৃষকরা। মুহূর্তেই সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুরু হয় দরকষাকষি।
দরদামে মিললেই কৃষকরা টমেটো তুলে দেন পাইকারদের হাতে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মকালীন টমেটো বাজার হিসেবে পরিচিত এই গাবুরা বাজার। এখানে প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টায় বিক্রি হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকার টমেটো।
বাজার মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে মূল বেচাকেনা। আগে থেকেই অবস্থান করা পাইকাররা টমেটো কিনে নেন ভ্যান আসার সঙ্গে সঙ্গেই। এবছর আকারভেদে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। দাম তুলনামূলক ভালো থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
এই বাজারে বিপুল, আনসাল, বিউটি প্লাস, রানী ও সুপার হট জাতের টমেটোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুমী বাজার আরও প্রায় এক মাস চলবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১০৮ হেক্টর জমিতে টমেটো। হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১.৬৪ মেট্রিক টন। সদর উপজেলা ছাড়াও টমেটো চাষ হচ্ছে চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, বিরল, খানসামা ও পার্বতীপুর উপজেলায়।
পঞ্চগড় থেকে টমেটো কিনতে আসা ব্যবসায়ী আনোয়ার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জন্য এই বাজার বিখ্যাত। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এই বাজারের টমেটোর। এজন্য প্রায় ২০ দিন ধরে বাজারে অবস্থান করছেন এবং আরও এক মাস থাকবেন তিনি।
তিনি জানান, এ বছর টমেটো কেনা হয়েছে আকারভেদে ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০০ টাকা মণ দরে। তবে টানা বৃষ্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে দাম।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার টমেটো কেনাবেচা হয় এই বাজারে। মৌসুমজুড়ে এই লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকায়।
কৃষক আকবর আলী জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন তারা। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে দাম। তারপরও লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কৃষক আকবর আলী মতে, টমেটো সংরক্ষণের জন্য মিনি হিমাগার থাকলে আরও উপকৃত হতেন কৃষকরা। তিনি মিনি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
গাবুরা বাজারে প্রতিদিন কাজ করছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। প্রতিটি আড়তে টমেটো বাছাই, ক্যারেটে ভরা ও ট্রাকে তোলার কাজে নিয়োজিত থাকেন ১০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক। প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে এ বাজারকে কেন্দ্র করে।
গাবুরা বাজারে ক্যারেটে টমেটো ভরার কাজ করেন শমসের। তিনি জানান, দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা কাজ করেই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন তিনি। তার জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে মৌসুমের এই কাজ।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, লাভজনক হওয়ায় সদরসহ কয়েকটি উপজেলায় চাষ বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর। গাবুরা বাজারে দুই মাস ধরে চলে এই বাণিজ্য। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ লাখ কেজি টমেটো।
টমেটো সংরক্ষণের জন্য মিনি হিমাগার স্থাপন করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



