লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিচ্ছিন্ন বান্দরবান, অবরুদ্ধ জেলা শহর

ছবি: আগামীর সময়
লাগাতার বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান জেলা শহর কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অবরুদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাও জলবন্দি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সকালে বৃষ্টি কিছুটা থেমে রোদ উঠলে নিম্নাঞ্চলের বানের পানি নামতে শুরু করে। তবে বিকাল থেকে আবারও অতিভারী ও টানা বর্ষণ শুরু হলে নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে পানি নেমে যাওয়া নিম্নাঞ্চল আবারও দ্বিগুণের বেশি এলাকায় প্লাবিত হয়। দুর্ভোগ চরমে ওঠে সাধারণ মানুষের।
সরেজমিন দেখা যায়, শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যেই বান্দরবান-কেরানীরহাট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রায় তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বান্দরবান শহরের বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা জমির উদ্দিন জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকালে পানি কিছুটা কমলেও শনিবার ভোররাত থেকে আবারও পানি বাড়তে থাকে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও এমডিএস পয়েন্টসংলগ্ন সড়কে প্রায় চার ফুট পানি ওঠায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
রোয়াংছড়ির ব্যবসায়ী দীপক কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের প্রবেশমুখে বেইলি সেতু পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এদিকে, বান্দরবান শহরসংলগ্ন প্যাপদা সেতু প্রায় তিন ফুট পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় রুমা ও থানচি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় যেতে কক্সবাজারের চকরিয়া-চিরিঙ্গা হয়ে সংযোগ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। শুক্রবার থেকেই ওই সড়কের বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন থাকায় এ দুটি উপজেলাও কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় যাওয়ার দুটি প্রধান সড়ক, ঈদগাঁও-বাইশারী সড়ক এবং রামু রাবার বাগান-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পুরো সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
বান্দরবানের মাটি ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করে বান্দরবান মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (এসসিডব্লিউএমসি)। এবারের বন্যার ধরণ নিয়ে কেন্দ্রটির ইনচার্জ মাহবুবুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত কয়েক গুণ বেশি হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ২০২৩ সালের তুলনায় এবার বান্দরবানে আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে।
এসসিডব্লিউএমসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৪ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১১০ মিলিমিটার। ২০২৪ সালের একই সময়ে হয়েছিল ১২৪ মিলিমিটার। ২০২৫ সালে এ সময়ের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ২৩৫ মিলিমিটার। অথচ চলতি বছর ৪ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯১ মিলিমিটারে।
মাহবুবুল ইসলাম বলেছেন, ‘এই লক্ষণ খুব একটা ভালো নয়।’ তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এর ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটছে।




