রাতে উজাড় হচ্ছে কালাছড়া বন

সংগৃহীত ছবি
দিনের আলো ফোটার আগেই পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে আসে গাছবোঝাই অটোরিকশা, ভ্যান কিংবা ছোট যানবাহন। ঘন বনভূমির ভেতরে তখন পড়ে থাকে সদ্য কাটা গাছের গোড়া। স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালাছড়া বনবিটে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ড।
তাদের অভিযোগ, বনভূমির মূল্যবান গাছ কেটে রাতের আঁধারে পাচার করা হলেও কার্যকরভাবে বন্ধ হচ্ছে না এই অপতৎপরতা।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন কালাছড়া বনবিটের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সম্প্রতি গাছ কাটার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রায়ই গভীর রাতে করাতের শব্দ শোনা যায়। ভোর হওয়ার আগেই কাটা গাছ খণ্ড খণ্ড করে সরিয়ে নেওয়া হয় বন থেকে। আকাশমণি, সেগুন, আগর ও গর্জনের মতো মূল্যবান গাছই মূলত চোরাকারবারিদের টার্গেট। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা ব্যবহার করায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাচারের ঘটনা থেকে যায় নজরের বাইরে।
গতকাল সোমবার ভোরে কালাছড়া এলাকায় আকাশমণি গাছ পাচারের সময় স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে গাছগুলো হস্তান্তর করা হয় বন বিভাগের কাছে। ঘটনাটি নতুন করে বনভূমিতে গাছ পাচারের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের বেলা বন থেকে গাছবোঝাই যানবাহন বের হতে দেখা যায়। তবে বেশিরভাগ সময় নেওয়া হয় না তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। বর্তমান বিট কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাচারের ঘটনা বেড়েছে।
তাদের দাবি, বন বিভাগের কিছু ব্যক্তির যোগসাজশ ছাড়া এত বড় পরিসরে গাছ কাটা ও পাচার অসম্ভব। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো লিখিত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম বলেছেন, ‘গাছ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই আমার। বরং দায়িত্ব নেওয়ার পর পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন এবং অপপ্রচার।’
গতকাল ভোরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ আটক করা হয়েছে গাছ। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানালেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হকের ভাষ্য, গাছ পাচারের সঙ্গে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে করা হবে তদন্ত। অভিযোগের সত্যতা মিললে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।




