কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভুক্তভোগী খাইরুন বেগম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা আদায় কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে উঠেছে এ নির্যাতনের অভিযোগ। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে ভুক্তভোগীর নিজ বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগমকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে কিল-ঘুসি ও তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
খাইরুন বেগম জানান, গত বছর ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েত পাড়ি জমান তার স্বামী নজির মোল্লা। তবে বিদেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো কোনো অর্থ পাঠাতে পারেননি তিনি। ফলে তিন সন্তান ও গর্ভের অনাগত সন্তান নিয়ে চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটছিল তার। এর মধ্যেই কিস্তির টাকা আদায়ে নিয়মিত বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছিলেন এনজিওকর্মীরা। কষ্টের মধ্যেও দুটি কিস্তি পরিশোধ করেন খাইরুন বেগম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শনিবার দুপুরে ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ আরও তিনজন তার বাড়িতে এসে বকেয়া কিস্তি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় ঘরে টাকা না থাকায় প্রবাস থেকে টাকা এলে পরিশোধ করবেন বলে জানান তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রেখে হুমকি দেওয়া হয় টাকা আদায়ের।
খাইরুন বেগম আরও জানান, অসুস্থতার কথা জানালে নারী কর্মীরা গালমন্দ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার মনির চুলের মুঠি ধরে বাইরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দরজা আঁকড়ে ধরে থাকলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে নারী কর্মীরা এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বমি করলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম জানান, একটি সালিশ বৈঠকে থাকার সময় খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় খাইরুনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে এভাবে মারধর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আহত গৃহবধূর চাচি শাশুড়ি পরীবানুর ভাষ্য, বউমা অনেক অনুরোধ করে বলেছে, টাকা পাঠালেই কিস্তি পরিশোধ করবে। কিন্তু তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খাইরুনের ভাশুর রফিক মোল্লা জানান, প্রবাসে থাকা আমার ভাই টাকা পাঠাতে পারেনি এখনো। কিস্তি দিতে না পারায় তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রামে চার মাসের ভ্রূণ সুস্থ আছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন বলেছেন, আমরা তাকে শুধু অফিসে আসতে বলেছি। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিস্তি বকেয়া রেখেছেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের ভাষ্য, এ বিষয়ে এখনো কেউ আমাদের অবহিত করেনি। তবে ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



