বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অকুতোভয় বীর সিপাহসালার : খন্দকার মারুফ

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাহুগ্রাস থেকে দেশ রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন ও অকুতোভয় বীর সিপাহসালার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধায় চিরকাল স্মরণ রাখবে।
আজ শনিবার বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে নারী শিক্ষার প্রসার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মজবুত অর্থনীতি এবং দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের চাপের মুখে তিনি কখনও আপস করেননি, কারও কাছে মাথা নত করেননি। তার এই আপসহীন ও দৃঢ় সংকল্প বেগম জিয়াকে বাংলাদেশ তথা বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের জেল-জুলুম ও নিপীড়ন উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নির্ভীক ও সদা জাগ্রত। দেশের আপামর জনগণের কাছে তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও নন্দিত হয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন ‘গণতন্ত্রের মাতা’ হিসেবে। আর অন্যদিকে বিএনপি ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে গণধিকৃত ও নিন্দিত হয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আগামী দিনে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এবং আবারও উন্নয়নের রোল মডেল হবে।
ড. মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ৬ মাসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের নজর কেড়েছেন। এটি এখন জনগণের কাছে প্রমাণিত যে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
দাউদকান্দি সদরের ‘মারুফ ভিলা’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দোয়া অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার এবং মেঘনার ভাওরখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে এম শামসুল হক, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলারা শিরীন, যুবদল নেতা ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, শরীফ চৌধুরী, শাহ্ আলম সরকার ও রোমান খন্দকার প্রমুখ।






