লাথি মেরে মায়ের দাঁত ভেঙে দিলেন মাদ্রাসাশিক্ষক ছেলে

চিকিৎসা নিচ্ছেন আহত আনোয়ারা বেগম। শনিবারের ছবি/সংগৃহীত
বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার সবচেয়ে আশা-ভরসা সন্তান। অথচ সেই সন্তানের হাতেই নির্যাতনের শিকার হলো অসহায় বৃদ্ধা। ভরণপোষণ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলের আঘাতে আহত হয়েছেন সত্তোরোর্ধ্ব মা আনোয়ারা বেগম। সন্তানের লাথিতে ভেঙে গেছে একটি দাঁত, ফেটে গেছে ঠোঁট, জখম হয়েছে নাকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কলবাড়ি গ্রামের ঘটনা এটি। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে আনোয়ারা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আঘাতে তার একটি দাঁত ভেঙে ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে। তবে বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধার ছেলে মনিরুল ইসলাম উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণা।
এ ঘটনায় শনিবার আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ছেলে ও ছেলের বউকে আসামি করে মামলা করেন শ্যামনগর থানায়। মামলার পর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকা থেকে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. পিয়ার উদ্দিন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।




