দুই শিশু নিয়ে আশ্রয়হীন অন্তঃসত্ত্বা মাহমুদা চান নিরাপদ জীবন

দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন আশ্রয়হীন অন্তঃসত্ত্বা মাহমুদা। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই শিশুকে নিয়ে ফুটপাতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাহমুদা খাতুন। তার সঙ্গে রয়েছে সাত বছর ও ১৬ মাস বয়সী দুই কন্যাসন্তান। এ অবস্থায় চার দিন কাটানোর পর এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পুলিশের উদ্যোগে সোমবার রাতে তাকে ভর্তি করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, উপজেলার ভরাডোবা এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন মাহমুদা। সেখানে ১৪ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে যাওয়ায় তাদের বের করে দেন বাড়ির মালিক। এরপর মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে ভালুকা ট্রাকস্ট্যান্ড ও বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের পাশের টিনশেডে, যেখানে ট্রাকচালকেরা বসেন, সেখানেই আশ্রয় নেন তিনি। কয়েকজন ট্রাকচালক ও আশপাশের দোকানদারের দেওয়া কলা, বিস্কুটসহ সামান্য খাবার খেয়ে দুই শিশুকে নিয়ে চার দিন কাটান এই অন্তঃসত্ত্বা নারী।
সোমবার রাতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থানরত মাহমুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি মোস্তানছির বিল্লা জোহাদ। পরে ভালুকা মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহেদা ফেরদৌসী হাসপাতালে গিয়ে মাহমুদা ও তার দুই শিশুর খোঁজখবর নেন।
মোস্তানছির বিল্লা জোহাদ জানান, গত বুধবার রাতে ভালুকা পৌর সদরের বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে দুই শিশুসহ এক নারীকে দেখতে পান। পরদিন সকালে কথা বলে জানতে পারেন, তাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। মাহমুদার স্বামী বিল্লাল হোসেন পেশায় বাসচালক। গত কয়েক মাস ধরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না।
মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘চার মাস ধরে আমার স্বামী কোনো যোগাযোগ করেননি। দুই শিশুকে নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন পার করছি।’
তিনি আরও জানান, তার বাবার বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার রাওনা গ্রামে। নয় বছর আগে ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের সোনাখালি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তাদের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। বাবার বাড়ির ওয়ারিশ নিয়ে বিরোধের পর সেখান থেকেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহমুদার বিষয়ে এক পোস্টে লেখেন, ‘ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাহমুদা। আগের দুটি সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স সাত বছর, আরেকজনের ১৬ মাস। স্বামী নিরুদ্দেশ। শ্বশুরবাড়ি কিংবা বাবার বাড়ির কোনো আত্মীয়স্বজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভালুকা পৌরসভা থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের সহযোগিতার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’




