সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

খুলনা ওয়াসার মাস্টাররোল কর্মচারী মো. দুলাল উদ্দিন খানের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন— সংগৃহীত
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছেন খুলনা ওয়াসার মাস্টাররোল কর্মচারী (সহকারী পাম্প অপারেটর) মো. দুলাল উদ্দিন খানের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন সীমা।
তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে, তার স্বামী এবং তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
আজ শনিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমিন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
ফরিদা ইয়াসমিন দাবি করেছেন, তার স্বামী মো. দুলাল উদ্দিন খান দীর্ঘদিন ধরে খুলনা ওয়াসার একজন মাস্টাররোল কর্মচারী (সহকারী পাম্প অপারেটর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাম্প হাউজটি জনস্বার্থে পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। খুলনা ওয়াসা তার স্বামীকে সেখানে বসবাসের অনুমতি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনাপত্তি প্রদান করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পটি রক্ষাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে তার স্বামী নিজ খরচে বসবাসের জন্য ঘর সংস্কার করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘গত ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিটি করপোরেশনের এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন হঠাৎ করে খালিশপুরস্থ পাম্প হাউজে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। ঘরটি সংস্কার করার কারণে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু তার স্বামী ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য করপোরেশনের কোনো অনুমতিপত্র আছে কি-না দেখতে চাইলে, গাজী সালাউদ্দিন প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গালাগাল করাসহ একপর্যায়ে তার স্বামীর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করতে উদ্যত হন। তখন তিনি (ফরিদা ইয়াসমিন) এস্টেট অফিসারকে থামাতে সামনে এগিয়ে গেলে তাকেও সজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।’
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেছেন, ‘তাদের বাঁচাতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে নিলয় এগিয়ে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে মোবাইল ফোনে এলাকা থেকে লোকজন ডেকে এনে দেখে নেওয়ার হুমকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।’
তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ছাড়া কেসিসির প্রশাসকের কাছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করা হয়েছে।
তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে কেসিসির এস্টেট অফিস গাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘কেসিসির মালিকানাধীন শূন্য দশমিক ১৮২৫ একর জমিটিতে একটি অকেজো পাম্প রয়েছে। জমিটি দীর্ঘদিন ধরে ওই কর্মচারী ঘর নির্মাণ করে দখল করে বসবাস করছেন। এ ছাড়া একটি কোচিং সেন্টারও কে বা কারা পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই স্থানে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি ও কেসিসির কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যান। সে সময় দখলদারদের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন তিনি।’





