বাউফলে বাস সিন্ডিকেটে ভোগান্তি যাত্রীদের

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর বাউফলে বাস পরিবহনে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাসের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং ভাড়া বৃদ্ধি করায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল-ঢাকা রুটে দীর্ঘদিন ধরে মুন পরিবহন, অন্তরা পরিবহন, চেয়ারম্যান পরিবহন, ইসলাম পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, বাউফল ট্রাভেলস ও কিংস পরিবহনসহ মোট সাতটি ব্যানারের বাস চলাচল করত। এসব পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাস যাত্রী পরিবহন করত।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মুন পরিবহনের মালিক রাজিব এবং চেয়ারম্যান পরিবহনের মালিক জালাল একত্রিত হয়ে ‘যৌথ দশমিনা এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি ব্যানারে কার্যক্রম শুরু করেন। এর ফলে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।
যাত্রীদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে বাসের সংখ্যা কমিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্বে যেখানে ভাড়া ছিল ৫০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রী উজ্জ্বল হোসেন বলেছেন, ‘সকাল ৯টায় বগা ফেরিঘাট এলাকায় এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এখন দুপুর ১২টা বাজলেও কোনো বাস আসেনি। আগে শান্তিতে যাতায়াত করতাম, এখন চরম ভোগান্তি হচ্ছে। সিট কভারের টিকিটও ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
আরেক যাত্রী রবিউল বললেন, ‘দাঁড়িয়ে গেলেও ৬০০ টাকা নেয়, বসে গেলেও ৬০০ টাকা নেয়। যেভাবেই যাই, ভাড়ার কোনো কমতি নেই।’
দশমিনা এক্সপ্রেসের বগা কাউন্টারের কর্মচারী মামুন বলেছেন, ‘বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত সবগুলো বাস এক ব্যানারের অধীনে পরিচালনা করবেন। ট্রিপও কমিয়ে দেবেন। আগে যে পরিমাণ বাস চলাচল করত, এখন তার অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ জানি না।’
তবে মালিকদের দাবি- তারা লোকসানের কারণে এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।
অভিযুক্ত পরিবহন মালিক সিন্ডিকেটের মো. রেজাউল করিম বললেন, ‘নতুন একটি নিয়ম চালু করেছি আমরা। আগে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করত, বর্তমানে ৩৮টি চলাচল করছে।’



