নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে দুই পুলিশ আহত, আটক ৪

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড অবরোধ করে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
একাধিক পুলিশ সদস্য আহতের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও কতজন শ্রমিক আহত হয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লিংকরোডের শিবু মার্কেট, ফতুল্লা স্টেডিয়াম, জালকুড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এই আহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই দফায় কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান জানান, নারায়ণগঞ্জে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড অবরোধ করে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, এই ঘটনায় পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন কারখানা থেকে কিছু ব্যক্তি এসে উস্কানি দিয়ে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভে নামিয়ে একত্রিত করে। আমরা ইন্ধনদাতাতের চিহ্নিত করতে চেয়েছিলাম, সাধারণ শ্রমিকদের কোন ক্ষতি চাই না। বিকাল ৫টার পর সাধারণ শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর কিছু ব্যক্তি সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। আমরা সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুপুরে আন্দোলন শুরুর পর বিকালের দিকে প্রথমে জালকুড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়েন। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। সংঘর্ষের সময় সড়কে থাকা কয়েকটি গাড়ির জানালার কাঁচও ঢিল মেরে ভেঙে ফেলে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন জানান, ‘আজকের ঘটনায় পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারজনকে আটক করে। তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’
এর আগে দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। তবে খাবারের বিরতির পর বিভিন্ন কারখানা থেকে বেরিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে জড়ো হতে থাকেন। প্রথমে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা উপেক্ষা করে তারা সড়কে অবস্থান নেন। কয়েকটি স্থানে বাঁশ, কাঠের টুকরা ও ঝুটের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশের চেকপোস্টের ব্যারিকেডও সড়কে ফেলে রাখা হয়।
দুপুরে স্থানীয় শিল্পকারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ধরণের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও কিছু কুচক্রী মহল শ্রমিকদের সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।’
এ বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে এসেছে বলেও জানান তিনি।



