ভাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
এক বিদ্যালয় এক শিক্ষক

ছবি: আগামীর সময়
চলতি শিক্ষা বছরের প্রথম দিন নতুন পাঠ্যপুস্তক হাতে পেলেও ভাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি আসেনি শিক্ষক স্বল্পতার কারণে।
গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ভাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪ জন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছেন একজন মাত্র শিক্ষক!
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানম অবসরজনিত ছুটিতে গেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে একজন মাত্র সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাইফুল ইসলাম সোমবার জানালেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত একজনকেই পালন করতে হচ্ছে। অনেক দেন-দরবার করে ছয় মাসের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন শিক্ষককে প্রেষণে আমাদের বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তাদের দায়িত্বকাল সমাপ্ত হওয়ায় নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলম খান বললেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও শিক্ষক পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়টির অন্য একজন সহকারী শিক্ষক মো. রুবেল মিয়া ১০ মাসের জন্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণে যাওয়ার পর একমাত্র শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়টিতে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম।
১৯৪০ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে পুরনো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২০০৯-১০ অর্থবছরে আড়াই তলাবিশিষ্ট পাকা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকার পরও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন।
শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন একাধিক অভিভাবক।
আজ সোমবার একজন মাত্র শিক্ষক উপজেলায় জরুরি সভায় যোগ দিতে চলে গেলে বিদ্যালয়টি দুপুর ১টায় ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাটিবলাকী গ্রামের বাসিন্দা সুজন খান জানালেন, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে পুরোদমে লেখাপড়া শুরু করার জন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকলেও শিক্ষক স্বল্পতার কারণে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের সমাধান করে শিশুদের পড়াশোনার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যালয়টির একমাত্র শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বছরের শুরুতে শিশু জরিপসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করতে হয় একজন শিক্ষককেই।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন পাঠদান কোনো শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব?
আমি একা কীভাবে কী করব বুঝতে পারছি না।
সাইফুল ইসলাম আরও জানালেন, সোমবার আমাকে জরুরি প্রয়োজনে গজারিয়া শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে হবে। আজ দুপুর ১টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে হয়েছে। বিকল্প কোনো সমাধান না থাকায় দুপুরের পর স্কুল বন্ধ না করে কোনো উপায় ছিল না।
গজারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বলেছেন, বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরও একজন শিক্ষক সাময়িক সময়ের জন্য দেওয়া হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিলে ভাটিবলাকী স্কুলসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক স্বল্পতা দূর হবে।







