মাজার ব্যবস্থাপনায় সব পক্ষের সমন্বয়ে স্বচ্ছতা আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই কাঠামোর প্রস্তাব দেবে কমিটি।
১২ সদস্যের এই কমিটিটি গঠন করা হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে।
আজ শুক্রবার সকালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সিলেট সার্কিট হাউজে মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নসংক্রান্ত এক বৈঠকে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি মাজারের দানবাক্সে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা-সমালোচনার পর। এতে দানের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, দরগাহর উন্নয়ন এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে। এ উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছে মাজার কর্তৃপক্ষও। নতুন গঠিত কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
তার ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কমিটিই প্রচলিত নিয়মে দানের অর্থ গণনা করবে এবং আগের মতো তা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
কমিটির সদস্যরা হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। সিলেটের জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকার অতীতের বিষয় নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে ভবিষ্যতমুখী সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তার ভাষ্য, এককভাবে কাজ করার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো বেশি কার্যকর। সরকার এমন একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে স্বচ্ছতার পাশাপাশি সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হবে না।
এর আগে সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মাজারের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মাজার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




