বন্যায় ঘরে ঘরে চর্মরোগ

ছবি: আগামীর সময়
গৃহবধূ রোজিনা আক্তার (৩৩)। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় তার ঘরে পানি উঠেছিল তিন ফুট। পানি নেমে গেলেও উঠোনে এখনো হাঁটুপানি।
ঘরের মেঝে ও উঠোনে জমে থাকা পলিমাটি পরিষ্কার করতে গিয়ে চুলকানি শুরু হয়েছে তার গায়ে। তার স্বামী ও এক ছেলের হাত-পায়েও দেখা দিয়েছে খোসপাঁচড়া। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী গ্রামে।
রোজিনা আক্তার বলেছেন, ‘শরীরে পানি লাগলেই চুলকায়। পরিবারের চার সদস্যেরই চুলকানি হয়েছে। এক ছেলে জ্বরেও ভুগছে। ঘর ও উঠোনের পলি পরিষ্কার করার পর থেকেই সমস্যাটা শুরু হয়েছে।’
রোজিনার পাশের বাড়ি আমেনা বেগমও বন্যার নোংরা পানি মাড়িয়ে করেছেন সংসারের কাজ। গত রবিবার থেকে তার হাত-পায়ে চুলকানি শুরু হয়েছে, একই অবস্থা তার এক মেয়েরও।
আমেনা বলেছেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি ফেলে হাসপাতালে যেতে পারিনি। ফার্মেসি থেকে চুলকানির ওষুধ কিনে খাচ্ছি।’
শুধু রোজিনা ও আমেনার বাড়িতে নয়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের বন্যার পর চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় বাড়ছে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, আমাশয় ও বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা।
অনেক এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা থাকায় হাসপাতালে যেতে পারছেন না রোগীরা। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
বরইতলী ইউনিয়নের বিবিরখিল গ্রামের আকবর আলীর পরিবারেও বন্যার পর ছড়িয়ে পড়েছে অসুস্থতা। তার চার সন্তানের মধ্যে মাহফুজ ডায়রিয়ায়, মিম জ্বর-কাশিতে এবং জান্নাতুল চর্মরোগে আক্রান্ত। ১৬ সদস্যের যৌথ পরিবারের চুলকানির সমস্যা দেখা দিয়েছে ছয়জনের শরীরে।
আকবর আলী জানিয়েছেন, তাদের পরিবার ছয় দিন পানিবন্দি ছিল। এর মধ্যে দুই দিন বাড়িতে কোমরসমান পানি ছিল। এখনও উঠোনে পানি রয়েছে। জলাবদ্ধতার মধ্যেই চলাফেরা করতে গিয়ে পরিবারের কয়েকজন ঠান্ডাজনিত রোগ ও চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিসকাত উদ্দীন আহমদ আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বন্যার পানি পুরোপুরি না নামায় অনেক রোগী হাসপাতালে আসতে পারছেন না। তবে জরুরি বিভাগে ইতোমধ্যে কয়েকশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কয়েকজন রোগী ভর্তি আছেন।





