বোয়ালমারীতে জমি নিয়ে বিরোধে সেনা সদস্যের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুর রহমান
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই সেনা সদস্যের একটি পা ভেঙে গেছে। তিনি ও তার স্ত্রী এখন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আব্দুর রহমান।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আজাহার শেখের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. আব্দুর রহমানের (৪৮) সঙ্গে তার ছোট ভাই মিজানুর শেখ ও আমিনুর শেখসহ পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে মিজানুর শেখ (৪০), ইয়াসিন শেখ (২২), আমিনুর শেখ (৩৮), ওমর শেখ (১৮) ও অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন জমি থেকে একটি বড় নিমগাছ কাটতে শুরু করেন। এতে বাধা দিলে তাকে পরিবারসহ খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়। ওই দিনই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর বোয়ালমারী থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দেন। পরদিন সকালে বিবাদীরা কাটা নিমগাছটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গাছ থানায় নেওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার বিকালে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রহমানের ওপর হামলা চালান। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী সেলিনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুর রহমানের একটি পা ভেঙে যায়।
পরে প্রতিবেশীরা স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে। প্রকাশ্যে আমার জায়গার গাছ কেটে নিয়ে গেছে। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। এখন এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।’
অভিযুক্ত আমিনুর শেখের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোয়ালমারী থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছিলেন। পরে বিবাদীরা গাছ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। মারামারির খবর পেয়ে তিনি আবার ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
বোয়ালমারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




