পানির অভাবে আক্কেলপুরে তিন বিঘার ধান নষ্ট, আরও ২০ বিঘা নিয়ে শঙ্কা
- বিএমডিএর পানি সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন
- অগভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি কৃষকদের
- ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের লোচনপাড়া। এ এলাকার ফসলি মাঠগুলোয় আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে আমন ধান কাটা ও মাড়াই। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে সেচের পানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে নষ্ট হয়েছে অনেকের বিঘা বিঘা জমির ধান। এ অবস্থায় রীতিমতো দিশাহারা তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ থেকে প্রয়োজনের সময় পানি না পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে তাদের এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ফসলের ক্ষতি এড়াতে আগামী বোরো মৌসুমের আগেই মাঠে একটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি ভুক্তভোগী কৃষকদের। গত ২৭ অক্টোবর উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এ দাবিও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, লোচনপাড়া ফসলি মাঠে বিএমডিএর একটি গভীর নলকূপ থাকলেও সেখান থেকে পর্যাপ্ত ও সময়মতো সেচের পানি পাওয়া যায় না। কয়েক বছর ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান হয়নি। নলকূপের অপারেটর নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পানি সরবরাহ করেন না। অন্যদিকে মাঠের ওই অংশের জমিগুলো তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় বিদ্যমান নলকূপের পানি সহজে সেখানে পৌঁছায় না। ফলে সেচব্যবস্থার সংকট কাটাতে নতুন একটি অগভীর নলকূপ স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি লোচনপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা গেল, পানির অভাবে ইউনুস আলী নামে এক কৃষকের জমির ধানগাছ শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। আশপাশের কয়েকটি জমিতেও ধানগাছ শুকিয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়।
মাঠের ১০ থেকে ১২ জন কৃষক জানিয়েছেন, প্রতি বছরই সেচের পানি নিয়ে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে জমিগুলো উঁচু হওয়ায় গভীর নলকূপের পানি সেখানে পৌঁছতে সমস্যা হয়। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ধানের ফলন কমে যাচ্ছে। আগামী মৌসুমের আগে বিকল্প সেচের ব্যবস্থা করা না হলে মাঠের ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমিতে ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের জমিগুলো মাঠের অন্য জমির তুলনায় কিছুটা উঁচু। গভীর নলকূপ থেকে পানি ছাড়লেও তা ঠিকমতো জমিতে পৌঁছায় না। আবার প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। এ কারণে ধানক্ষেতের ক্ষতি হচ্ছে।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউনুস আলী অভিযোগ করে বললেন, ‘সেচের পানি না পাওয়ায় আমার তিন বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আশপাশের আরও ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমির ধানও কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই আমরা এ সমস্যায় ভুগছি।’
সেচ সংকটের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানালেন আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেন তিনি।
উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমানও আগামীর সময়কে বললেন লিখিত অভিযোগের কথা। তিনিও মাঠে অগভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন।



