মালয়েশিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মিয়ানমারে পাচার, মুক্তিপণ আদায়

সংগৃহীত ছবি
মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। পরে কিশোরদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ৯৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পার হয়ে কিশোর দুজনকে টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পে ফেরানোর সময় চক্রের সঙ্গে জড়িত দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের উনচিপ্রাংয়ের ২২ নম্বর ক্যাম্পের এপিবিএন চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার আটক দুজনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচারের মামলা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর হলো সৈয়দুল আমিন (১৪) ও মফিজুর রহমান (১৪)। তারা উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা। আটক দুজন হলেন কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পের মোহাম্মদ ইউসুফ (৪৩) এবং উনচিপ্রাংয়ের ২২ নম্বর ক্যাম্পের বি/১ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৩১)।
১৬ এপিবিএন জানায়, গত ৬ অক্টোবর মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দুই কিশোরকে বালুখালী ক্যাম্প থেকে নৌকায় করে নদীপথে মিয়ানমারে নিয়ে যায়। পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে চক্রটি।
পরবর্তী সময়ে কিশোর দুজনকে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পার করে উনচিপ্রাং এপিবিএন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সময় দায়িত্বরত সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় মানবপাচারের শিকার দুই কিশোরকে উদ্ধার এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
উদ্ধারের পর কিশোর দুজনকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে আটক ব্যক্তি, উদ্ধার হওয়া কিশোর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এপিবিএনের নিরাপত্তায় টেকনাফ মডেল থানায় পাঠানো হয়।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।




