বনের রক্ষকই ভক্ষক

মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়— সংগৃহীত
বনের গাছ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব যার, তার বিরুদ্ধেই উঠেছে গাছ ‘হাওয়া’ করে দেওয়ার অভিযোগ। এক-দুইটি নয়, সামাজিক বনায়নের ১৮২টি পরিপক্ক ইউক্যালিপটাস গাছ বিক্রির অভিযোগ। এ ঘটনায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া রেঞ্জের ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা ফোরকানুল আলমকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ক্লোজ করা হয়েছে।
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিন হক। তদন্ত শেষে ওই বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠান তিনি। এরপরই গত সোমবার তাকে ভবানীপুর বিট থেকে সরিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন পাহারার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির হাতে যদি গাছের হিসাব কমতে থাকে, তাহলে বন রক্ষার খাতা আর গাছের সংখ্যা— দুটোর হিসাব মেলানোই কঠিন হয়ে পড়বে। বনের রক্ষকই এখন ভক্ষকে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আল আমিন হক জানান, ভবানীপুর বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘গাছ চুরির’ অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এ বিষয়ে তাকে বন বিভাগ থেকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সতর্কবার্তা তার কাছে যেন বনের বাতাসের মতোই এসেছে, বয়ে গেছে, কিন্তু কোনো দাগ রেখে যায়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগ অব্যাহত ছিল তার।
এ বিষয়ে দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফাহিম মাসউদের সঙ্গে মোবাইলের কথা হলে তিনি ভবাবীপুর বিট কর্মকর্তাকে ক্লোজ করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘১৮২টি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিভাগীয় অফিসে ক্লোজ করে কর্মহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আরও কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল বা কত টাকায় গাছ বিক্রি করা হয় তা হিসেবের পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা ফোরকানুল আলমের মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।







