চীনের বাজারে রাজশাহীর রেশমের অবস্থান তৈরি করতে হবে : পাট প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহীতে রেশম চাষ, গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলন— সংগীত
চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি রেশমের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘রেশম শিল্প শুধু একটি উৎপাদন খাত নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের অংশ। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে এ শিল্পকে আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে।’
আজ মঙ্গলবার রাজশাহীতে চীন-বাংলাদেশের কৌশলগত সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে রেশম চাষ, গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্র এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ রেশম কারখানা ও রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘রাজশাহীর রেশম কেবল একটি শিল্প নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের অংশ। সরকার আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘রেশম চাষের পদ্ধতি উন্নয়ন, তুঁত চাষের প্রসার এবং রেশম সুতার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
চীনের বাজারে রেশম রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘বিশ্বের অন্যতম বড় রেশম উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ চীনের বাজারে বাংলাদেশের রেশমের অবস্থান তৈরি করা গেলে এ শিল্প নতুন গতি পাবে। এজন্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণ ও বিপণন কৌশল উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব কারখানার বাজারের পরিধি বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
রাজশাহীর রেশম শিল্পে উৎপাদনের চিত্রও তুলে ধরা হয় সম্মেলনে। ২০১৮ সালে পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারখানায় মোট ৫৯ হাজার ৪৬৮ মিটার রেশম কাপড় উৎপাদিত হয়েছে। কারখানার নিজস্ব শোরুমে গরদ শাড়ি, প্রিন্টেড শাড়ি, পাঞ্জাবির কাপড় ও বলাকা সিল্কসহ বিভিন্ন রেশম পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত জাতের তুঁত ও রেশমকীট উৎপাদন, চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে রেশম উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান দুটিই বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বাড়বে।
তারা আরো বললেন, চীনের বাজারে প্রবেশের জন্য শুধু মানসম্মত রেশম সুতা ও কাপড় উৎপাদন যথেষ্ট নয়। আধুনিক নকশা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বিপণন কৌশলও নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ‘রাজশাহী সিল্ক’ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্মেলনে রাজশাহীর রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘রাজশাহী সিল্ক বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এ শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ (বাঘা- চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ঝেজিয়াং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ও ভাইস ডিন অধ্যাপক জু কিউজি এবং চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প উদ্যোক্তা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক নুসরাত জাহান নিপা।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ এতে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন।







