জামালপুর নার্সিং কলেজে ১৩ দিন ধরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’

জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আগামীর সময়
নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের পদায়ন বাতিলের দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার ১৩তম দিনের মতো চলা এ কর্মসূচিতে বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস।
দুর্গাপূজার ছুটি শেষে রবিবার কলেজ খুললেও ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে কলেজে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান তারা। এ সময় ‘মাকসুদা ইয়াসমিনের পদায়ন বাতিল করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, মাকসুদা ইয়াসমিনের পদায়নের আদেশ বাতিল করে অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তাদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব কারণে তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন তারা।
শিক্ষার্থী শারমিন বললেন, ‘শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার বললেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকেরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। এতে ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ রয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এ আদেশের পর থেকেই তার যোগদান ঠেকানো ও পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ১৫ অক্টোবর মাকসুদা ইয়াসমিন কলেজে যোগ দিতে গেলে তাকে প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর কলেজে আসেননি বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাকসুদা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



