গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন
হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৫ টন ফলন দেবে ‘জিএইউ ধান-৪’
- হেক্টরপ্রতি প্রয়োজন ২৫-৩০ কেজি বীজ
- বীজ বপনের উপযুক্ত সময় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
- ২০-২২ দিনের চারা কাদা জমিতে রোপণ করতে হবে
- বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে কাটা যায় ফসল
- বছরে ৩-৪টি ফসল উৎপাদনের সুযোগ
- আমন ও বোরোর সীমাবদ্ধতা কাটাবে ‘জিএইউ ধান-৪’

ছবিঃ আগামীর সময়
স্বল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। প্রায় এক দশকের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতটি অনুমোদন পেয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রনি ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এই তথ্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ জাত কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম ময়নুল হক ও অধ্যাপক মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে গবেষক দলটি এ জাত উদ্ভাবন করেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে। মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৫টি।
গবেষকেরা জানান, বাংলাদেশে আউশ ধানের ফলন সাধারণত আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় কম। তবে ‘জিএইউ ধান-৪’ সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। স্বল্প সময়ে পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকেরা দ্রুত জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এই জাত নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আউশ ধান পারিজা ধান ও উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত বিইউ ধান‑২-এর সংকরায়নের মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। দীর্ঘ গবেষণা শেষে জিএইউ-৯৯৭৪-৫২-৭-২ লাইন থেকে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ নামে জাতটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন এ ধান পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ফলে এটি সহজে হজমযোগ্য এবং মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। গাছের দানা লম্বা ও চিকন। বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকদের জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী।
গবেষকেরা জানান, এ জাতটি রোগবালাই প্রতিরোধী। সাধারণ জাতের তুলনায় গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। পাশাপাশি কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় এটি জলবায়ু সহনশীল। যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষযোগ্য। চাষাবাদের ক্ষেত্রে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বীজতলায় বপন উপযুক্ত সময়। ২০ থেকে ২২ দিনের চারা কাদা জমিতে রোপণ করতে হবে।
সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মসিউল ইসলাম জানিয়েছেন, কম সময়ে বেশি ফলন ও বাজারে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এ আউশ ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। ‘জিএইউ ধান-৪’ সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে।
‘গবেষকদের নিষ্ঠা ও মেধার প্রতিফলন এই উদ্ভাবন। এটি দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে’, মত দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান।

