মোহনগঞ্জে রাতের আঁধারে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের চিকাডুবী ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট হয়েছে। উপজেলার ৭ নম্বর গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে ব্লক লুট করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৫.৩ কিলোমিটার স্থানে ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পাউবো।
চলতি মাসের ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে চিকাডুবী ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট করে বানিহাড়ি গ্রামের লোকজন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় প্রতি রাতে ওই বাঁধ থেকে ব্লক লুট চলছে বলে অভিযোগ।
এর আগের মাসেও বাঁধটির কয়েকটি অংশ রাতের আঁধারে কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এভাবে ব্লক লুট চলতে থাকলে বোরো ফসল রক্ষা করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
বরান্তর গ্রামের বজলু মিয়া বলেন, ১৮ আগস্ট রাতে ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের ২৭-২৮ জন নৌকায় করে এসব ব্লক লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় বাধা দেওয়ায় তাকে গালাগাল করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। বাধা দেওয়ার জেরে পরদিন রাতে বজলু মিয়ার মাছের আড়তেও হামলা চালায় বানিহাড়ি গ্রামের ব্লক লুটকারীরা। এই ঘটনায় বজলু মিয়া হামলাকারীদের আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক তানিম খান আদনান বলেন, কৃষকের ফসল রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ চিয়াডুবী বেড়িবাঁধের সরকারি ব্লক বানিহারি গ্রামের লোকজন রাতের আঁধারে লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। রাতের আঁধারে লুট করে ব্লক নিয়ে যাওয়ার সময় বজলু মিয়া নামের একজন বাধা দেওয়ায় সে এখন হামলার শিকার হচ্ছে।
উপজেলার ৭ নম্বর গাগলাজুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, বানিহাড়ি গ্রামের লোকজন বেড়িবাঁধের ব্লক নিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ থেকে নৌকায় ব্লক উঠাচ্ছে এমন অবস্থায় বরান্তর গ্রামে এক যুবক দেখতে পেয়ে গভীর রাতে আমাকে ফোন করে জানায়। পরে তাদের সাথে কথা বলে নৌকায় তোলারত ৯টি ব্লক বেড়িবাঁধে রেখে চলে যেতে বলি। থানায় মামলা করার পরেও কিভাবে তারা বেড়িঁবাধ থেকে ব্লক লুট করার দুঃসাহস করে। এর আগে ব্লক নেওয়ার সময় বজলু মিয়া বাধা দিয়েছিল। যার ফলে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ব্লক আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং যারা বাঁধের ব্লকগুলো নিয়েছেন, তাদের বাড়িতেও গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দুই-তিন দিনের মধ্যে বাঁধের যেসব স্থান থেকে ব্লক নেওয়া হয়েছে, সেখানে পুনরায় ব্লকগুলো রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তা থানায় জিডি করেছেন। পাশের গ্রামের যারা এসব ব্লক নিয়েছে, পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা আলোচনা করে ব্লক ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন।








