নবীনগর
শিশুকে পিটিয়ে আহত, অবরুদ্ধ মাদ্রাসাশিক্ষককে থানায় নিল পুলিশ

সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
মারধরের পর স্থানীয়রা শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব।
স্থানীয়রা জানান, শিশু শিক্ষার্থী টানা চারদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিল। বুধবার সকালে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব তাকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। পরে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে শিশুটি আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন।
খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নবীনগর থানায় নিয়ে যায়।
নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব নাথ জানান, স্থানীয়রা শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানালেন তিনি।
শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব। তিনি বলেন, ‘ছাত্রের ওপর মাইরটা মারাত্মক বেশি হয়ে গেছে। মারার সময় আমার রাগটা ধরে রাখতে পারিনি। এজন্য আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী।’
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ও মারধরের শিকার শিক্ষার্থী পরস্পরের আত্মীয়। এ কারণে শিক্ষার্থীর পরিবারের কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’






