ভেদরগঞ্জ
খাল পরিষ্কার করে সড়কে ময়লার পাহাড়!

ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সড়কের ওপর ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে চারদিন ধরে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ময়লা ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলার মতো ভেদরগঞ্জ পৌরসভাতেও খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম চলছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুর নির্দেশনায় পৌরসভার ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দখল ও দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পৌরসভা, স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ময়লা-আবর্জনায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অল্প বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি উঠে যায়। অনেক বাসিন্দাকে মাসের পর মাস পানিবন্দি থাকতে হয়। কয়েকটি স্থানে খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেনের মুখ খুলে দেওয়া হলেও সংস্কারের অভাবে কয়েকটি ক্যানেল বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিতভাবে বিষয়টি সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুকে জানান। পরে তিনি ভেদরগঞ্জ পৌরসভাকে পর্যায়ক্রমে দখল ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পরিষ্কার করে নাব্যতা ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এরপর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাকার মাথা থেকে দেওয়ানবাড়ি পর্যন্ত খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাল পরিষ্কারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উত্তর দিক থেকে পরিষ্কার করতে করতে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি এস্কেভেটর। তবে যেসব অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে, সেসব স্থানেও ময়লার স্তূপ পড়ে রয়েছে। এতে খালের পানি আটকে ময়লা পানি আশপাশের বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল থেকে তোলা ময়লা-আবর্জনা সড়কের ওপর ফেলে রাখায় চারদিন ধরে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ময়লা ছড়িয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ দেওয়ান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ সমস্যায় ছিলেন। বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানোর পর পৌরসভা খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছিলেন। তবে খাল থেকে তোলা ময়লা সড়কে ফেলে রাখায় চারদিন ধরে কেউ স্বাভাবিকভাবে বাড়ির বাইরে যেতে পারছেন না।
তার ভাষ্য, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারছে না। বিষয়টি পৌরসভাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গতকালের বৃষ্টিতে সড়কের ময়লা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঢুকে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। দ্রুত এসব ময়লা অপসারণ করে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেছেন, সড়কে ফেলে রাখা ময়লা পায়ে লেগে বাসাবাড়ির ভেতরে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ময়লা ছড়িয়ে পড়ায় দুর্গন্ধে ঘরে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ময়লা সরিয়ে নেওয়ার দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম দেওয়ান উল্লেখ করেন, এটি এলাকার বাজারে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ময়লার স্তূপের কারণে মানুষ হেঁটেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে স্কুলগামী শিশুরাও ভোগান্তিতে পড়েছে। বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক কে এম রাফসান রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বদলিজনিত কারণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেছেন, সাময়িক অসুবিধার জন্য তারা দুঃখিত। সড়কের ময়লা দ্রুত সরিয়ে নিতে পৌরসভার লোকজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে ময়লা সরিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।



