আম রপ্তানি ও সংরক্ষণে বড় পরিকল্পনা কৃষিমন্ত্রীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরকালে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
আম রপ্তানি সম্প্রসারণ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, আমবাগানে বিকল্প ফসল চাষ এবং কৃষিপণ্যে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরকালে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আম রপ্তানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য আমকে রোগবালাই ও পোকামাকড়মুক্ত করে নির্ধারিত মান বজায় রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশেষায়িত মেশিন স্থাপন করা হয়েছে, যা আগামী আম মৌসুমের আগেই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আম সংরক্ষণে জাপানের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোয় অন্তত ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আমের গুণগত মান ও রঙ অক্ষুণ্ন রেখে তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে আম বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন।’
আমবাগানের অব্যবহৃত জমিতে আদাসহ বিকল্প ফসল চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দেশে টমেটোর উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তামাক চাষের জমিতে বিকল্প হিসেবে টমেটো এবং গ্রীষ্মকালীন টমেটো উৎপাদনে কৃষকদের চারা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কাঁচামরিচের আমদানি নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আগামী মৌসুমে কাঁচামরিচ আমদানি করতে হবে না বলে আশা করছে সরকার। ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যও রয়েছে।’
সারের সংকটের আশঙ্কা নাকচ করে তিনি বলেন, ‘গত বছরের একই সময়ে দেশে সারের মজুদ ছিল ১০ লাখ টন, চলতি বছর তা বেড়ে ১৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও গত বছরের তুলনায় বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ ডিলার নিয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বছর জুড়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিকল্পিত উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষিকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রপ্তানিমুখী করা সম্ভব হবে।’



