১২০০ টাকা নিয়ে বিরোধ, নারীকে হত্যার পর ড্রামে ভরে ফেলে যায় লাশ

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলন
শেরপুরের শ্রীবরদীতে সেতুর নিচে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন ও ঘটনা আড়াল করতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে মরদেহ ফেলে যায় আসামিরা।
আজ রবিবার পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বললেন, নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি পার্লারে কাজ করতেন।
পিবিআই জানিয়েছে, গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ড্রামটি খুলে ভেতরে এক নারীর মরদেহ পায়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পিবিআই শেরপুরের ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। ২৩ অক্টোবর মামলাটি করা হয়। পরে পিবিআই শেরপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানকে।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪) নামের একজনকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে সজল (৪৪) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ঝিনুক আক্তার ঢাকার উত্তরখান এলাকায় কবিরশাহ মাজারের কাছে যান। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাকে দক্ষিণখান থানার মৌশাইর এলাকার একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয়তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনুক সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। তবে তিনি আরও টাকা দাবি করলে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমার সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা বঁটি দিয়ে ঝিনুককে এলোপাতাড়ি কোপান। পরে অন্যরা তার হাত-পা চেপে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নুর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেছেন, ‘এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মামলা। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের টাকা কম দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।’



