সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ড: নাটোরে পৌঁছেছে শামীম ও সাব্বিরের মরদেহ

কোলাজ: আগামীর সময়
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম ও সাব্বির হোসেনের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।
আজ শনিবার দুপুরে তাদের মরদেহ নিজ গ্রাম নলডাঙ্গায় পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের লাশ ফিরে আসার খবরে স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহত শামীম নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের জাকের আলীর ছেলে এবং নিহত সাব্বির হোসেন একই ইউনিয়নের খাজুরা শ্রীপুরপাড়া গ্রামের রাব্বানির ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে মরদেহ দুটি তাদের গ্রামে পৌঁছায়। সব প্রস্তুতি শেষে বিকেলে নিহতদের স্থানীয় মাঠে জানাজা পর দাফন হয়।
এর আগে ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহ হস্তান্তর করেছে সৌদি সরকার। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় অবস্থিত একটি সোফা কারখানায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। অগ্নিকাণ্ডে শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণে জটিলতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ২৭ আগস্ট তাদের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
শামীম ও সাব্বিরসহ বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্তে বিলম্ব হওয়ায় তাদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘ আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অবশেষে স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, উপার্জনক্ষম স্বজনদের হারিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা। এ সময় হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পক্ষ থেকে নিহতর পরিবারের জন্য সমস্ত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও শাম্মী আক্তার জানালেন, নিহত দুজনের মরদেহ তাদের বাড়িতে পৌঁছেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন কাফনে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের পরিবার চাইলে সহযোগিতার করা হবে বলে তিনি জানান।




