ভাগাড় থেকে ফুলের বাগান

টঙ্গী বিআরটি স্টেশনের নিচে রঙিন ফুলের বাগান
একসময় যে বিআরটি স্টেশনের নিচে ছিল ময়লার স্তূপ, ভবঘুরেদের আনাগোনা ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, সেখানেই এখন নতুন রূপ পেয়েছে রঙিন ফুলের বাগান আর নান্দনিক আলোকসজ্জায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশের বিআরটি স্টেশনগুলো ঘিরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ এরই মধ্যে দৃষ্টি কেড়েছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিন দেখা যায়, টঙ্গীর বিএনএস সেন্টার থেকে কলেজগেট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ফ্লাইওভারের নিচে থাকা বিআরটি স্টেশনগুলোর পরিবেশে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় স্টেশনগুলোর নিচের অংশ পরিণত হয়েছিল ময়লার ভাগাড়ে। সরকার বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেনের নির্দেশনায় টঙ্গী বাজার, স্টেশন রোড, মিলগেট, চেরাগ আলী ও শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন স্টেশনগুলোয় পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। প্রথমে অপসারণ করা হয় ময়লা-আবর্জনা। পরে মাটি ভরাট করে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। পাশাপাশি স্টেশনগুলোর দেয়ালে আঁকা হয়েছে গ্রাফিতি, বসানো হয়েছে সড়কবাতি এবং দেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের সংযোগ।
সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে স্টেশনগুলোর চেহারা। পরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি নগরবাসীর নজর কাড়ছে ফুলের বাগান ও দেয়ালচিত্র। সেখানে ছবি তুলতেও দেখা যায় অনেককে।
টঙ্গী থেকে নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন সরকারি চাকরিজীবী মো. মনির হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আগে স্টেশনগুলোর দিকে তাকাতেও খারাপ লাগত। এখন ফুলের বাগান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর আলোর কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ বদলে গেছে। রাতে চলাচলেও আগের চেয়ে নিরাপদ মনে হয়।’
বিডি ক্লিন গাজীপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা মোহাম্মদ কালিমুল্লাহ ইকবাল বললেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তার ভাষায়, ‘ফুলের বাগান ও দেয়ালচিত্র কংক্রিটের কাঠামোকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে গাজীপুরের আরও জনপরিসর এভাবে সৌন্দর্যবর্ধন করা সম্ভব।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানালেন, নিজস্ব অর্থায়নে বিআরটি স্টেশনগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নগর পরিকল্পনাবিদের ভাষ্য, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হয় না, সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবান্ধব ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হয়। টঙ্গীর বিআরটি স্টেশনগুলোর এই পরিবর্তন দেখিয়েছে— পরিকল্পিত উদ্যোগ ও যথাযথ পরিচর্যা থাকলে অবহেলিত জনপরিসরও নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব স্থানে পরিণত হতে পারে।




