আগামীর সময়

স্বস্তির বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে চা বাগানে

স্বস্তির বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে চা বাগানে

ছবিঃ আগামীর সময়

দীর্ঘ খরার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চা বাগানগুলো ভিজিয়ে দিয়েছে স্বস্তির বৃষ্টি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত উপজেলায় ৩২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে খরাক্লিষ্ট চা বাগানে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গাছে নতুন কুঁড়ি গজাবে বলে আশা করছেন চা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

চা সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী চা গাছের মাথা ছেঁটে ফেলা হয়, যাকে প্রুনিং বলা হয়। এরপর বৃষ্টির অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় নতুন রোপণ করা চারাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টির ফলে এসব গাছ রক্ষা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই গাছে নতুন কুঁড়ি দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘ খরার কারণে উপজেলার চা বাগানগুলোতে অনেক গাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছিল। চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাগানের চারা গাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কাঙ্ক্ষিত নতুন কুঁড়ি বা চা পাতা না থাকায় অধিকাংশ কারখানাও চালু করা যায়নি। এতে গত বছরের মতো এ বছরও চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে বৃষ্টির ফলে বাগানগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে।

লস্করপুর ভ্যালি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে উপজেলার চা বাগান এলাকায় ৩২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসে মাত্র ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তার আগের বছরের মার্চ মাসে রেকর্ড হয়েছিল ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি। গত কয়েক মাসে এ অঞ্চলে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উপজেলার সব কটি চা বাগান খরার কবলে পড়েছিল।

একাধিক চা বাগান ব্যবস্থাপক জানান, অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে শীত মৌসুমে চা গাছে নিয়ম অনুযায়ী প্রুনিং বা ছাঁটাই করা হয়। এরপর সার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অথবা মার্চ মাসে বৃষ্টি হলেই গাছগুলো আবার সবুজ পাতায় ভরে ওঠে।

এনটিসি কোম্পানির চন্ডিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু বৃষ্টি হয়েছে তাতে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। কিছুদিন আগে চা গাছের মাথা ছাঁটাই করা হয়েছিল, তখন বাগানে রুক্ষভাব দেখা গিয়েছিল। বৃষ্টির কারণে আবারও চা গাছগুলো জেগে উঠছে।’

    শেয়ার করুন: