বিশ্ব ডাকঘর দিবস আজ
ধোবাউড়ায় পোস্টমাস্টারের বাসায় চলছে সেবা
- জরাজীর্ণ গোয়াতলা শাখা ডাকঘরের ভবন
- চাকরিপ্রত্যাশীদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেরিতে পাওয়ার অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা শাখা ডাকঘরের ভবনটি প্রায় তিন বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী। দরজা-জানালা ভাঙা, টিনের চাল নষ্ট। ভেতরে নেই প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিল, আলমারি কিংবা অন্য কোনো আসবাব। ফলে ডাকঘরের কার্যক্রম এখন চলছে পোস্টমাস্টারের বাসা থেকে।
আজ বিশ্ব ডাক দিবস। একসময় চিঠি, মানি অর্ডারসহ নানা সেবার জন্য মানুষের ভরসার জায়গা ছিল ডাকঘর। প্রযুক্তির প্রসারে চিঠির ব্যবহার কমলেও গ্রামীণ এলাকায় সরকারি ডাকসেবার গুরুত্ব এখনো রয়েছে। তবে গোয়াতলা শাখা ডাকঘরের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়াতলা বাজারের পাশে ডাকঘরটির দরজা-জানালার বেশিরভাগই ভেঙে গেছে। টিনের চাল না থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ে কক্ষের ভেতরে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পড়ে থাকলেও সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, একসময় প্রতিদিন ডাকঘরে মানুষের ভিড় থাকত। চিঠিপত্র ও মানি অর্ডারসহ বিভিন্ন ডাকসেবা এখান থেকেই পাওয়া যেত। এখন ডাকঘরের ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রবেশপত্র অনেক সময় দেরিতে হাতে পান চাকরিপ্রত্যাশীরা। এতে তারা ভোগান্তিতে পড়েন এবং কখনো কখনো পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
গোয়াতলা পোস্টমাস্টার সুবোধ কর জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে ডাকঘরের ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী। ময়মনসিংহ পোস্টাল বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. মোজাম্মেল হক ডাকঘরটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেখানে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের কথা জানিয়েছেন। নতুন ঘর না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের বাসা থেকেই ডাকঘরের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এদিকে ভবনের সমস্যার পাশাপাশি গোয়াতলা শাখা ডাকঘরের প্রশাসনিক হিসাবাধীন পরিবর্তন এবং নতুন পোস্ট কোড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।



