ব্যাটারিচালিত রিকশা পেলেন সেই রানা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন রানা মিয়া। পড়াশোনার খরচ জোগাতে কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের সামনে বিক্রি করতেন শরবত। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করায় পায়ে ব্যথা হতো, রগে টান ধরত। তবু থামেনি তার পথচলা। তার সংগ্রামের গল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পাশে দাঁড়িয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রশাসন। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে এবার তাকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয়েছে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। একই সঙ্গে আরও দুই অসচ্ছল ব্যক্তি আলমগীর ও চান মিয়াও পেয়েছেন জীবিকার নতুন অবলম্বন।
গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের উদ্যোগে তিনজনের হাতে রিকশা তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে দেওয়া এসব রিকশা তাদের স্থায়ীভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের উত্তর কাচুরী গ্রামের বাসিন্দা রানা মিয়া কিশোরগঞ্জের সরকারি গুরুদয়াল কলেজের গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জন্ম থেকেই হাত-পায়ে শারীরিক সমস্যা থাকায় ভারী কাজ করতে পারেন না। অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনার খরচ বেড়ে গেলে জীবিকার তাগিদে শরবত বিক্রি শুরু করেন। তার লক্ষ্য ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং স্বাবলম্বী হওয়া।
রানার এই সংগ্রামের কথা তুলে ধরে গত ২৩ আগস্ট ‘আগামীর সময়’-এ ‘শরবত বিক্রি করে স্বপ্নের পথে শারীরিক প্রতিবন্ধী রানা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন ইউএনও ফাতেমা জান্নাত।
রানা মিয়া বললেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ব্যাটারিচালিত রিকশা দিয়েছেন। এটি চালিয়ে আয় করতে পারলে পড়াশোনার খরচ জোগাতে সুবিধা হবে। ক্লাস ও পরীক্ষার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এটি ভাড়া দিয়েও আয়ের চেষ্টা করব।’
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের ভাষায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রানা মিয়া পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার আয় করার সুযোগ তৈরি হলে উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখা সহজ হবে। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে তাকে রিকশা দেওয়া হয়েছে।



