শীতের আগেই শিম, বাড়তি আয়ের আশা

শিম মূলত শীতকালীন সবজি। তবে দিনাজপুরের খানসামায় শীত আসার আগেই ফলেছে শিম। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে হাইব্রিড জাতের এই সবজি চাষে ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। ধান চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প ফসল হিসেবে আগাম শিমের আবাwদ তাদের সামনে খুলে দিচ্ছে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছিট আলোকডিহি ডাক্তারপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে গ্রীষ্মকালীন শিমের এমন আবাদ। ধান চাষে উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রত্যাশিত লাভ না পাওয়ায় বিকল্প ফসলের খোঁজ করছেন কৃষকরা। তাদের কাছে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম এখন বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা।
আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক তায়জোদ আলী জুলাই মাসে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিমের বীজ বপন করেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গাছে শিম আসতে শুরু করে। এরপর নিয়মিত শিম তুলে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন তিনি।
তার ভাষায়, শিম চাষে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছে ভালো শিম ধরেছে। পাইকারের কাছে প্রতি কেজি ১৩০-১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত শিম পাওয়া যাবে। তার আশা, খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে।
একই এলাকার কৃষক ময়েজউদ্দিনও এই জাতের শিম চাষ করেছেন। ফলন ও দাম— দুটিই ভালো পাওয়ায় তিনিও সন্তুষ্ট। ময়েজউদ্দিনের ভাষ্য, তার ক্ষেতের শিম দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
অন্যের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ৩০ শতাংশ জমিতে শিমের আবাদ করেছেন কৃষক মো. সাদেক মিয়া। তিনি বললেন, ‘পাইকাররা ১০০-১১০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে আবার ১৪০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শিম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ার পেছনে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শও ভূমিকা রাখছে। ছাতিয়ানগড় ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেছেন, ‘শীতকালে বিভিন্ন জাতের শিমের চাষ হলেও হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালেও ভালো ফলন দিতে পারে। এ জাতের শিম গ্রীষ্ম ও বর্ষার আবহাওয়াসহিষ্ণু। কৃষকদের বীজ বপন, মাচা তৈরি, পরিচর্যা ও পোকামাকড় দমনের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পোকামাকড় দমনে কৃষকরা ইয়োলো ট্র্যাপ ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি বেশি পরিমাণে গোবর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে উপজেলার ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ করা হয়। এজন্য কৃষকদের বীজ, সার, ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় চাষ দেখে উৎসাহিত হয়ে কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে আরও প্রায় ১ একর ৪০ শতাংশ জমিতে এ জাতের শিমের আবাদ করেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭-৮ একরের বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানালেন, খানসামায় আগে গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ তেমন হতো না। কয়েকজন কৃষককে দিয়ে এর চাষ শুরু হয়। এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন। তাদের সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। তার আশা, ভবিষ্যতে এই আবাদ আরও বাড়বে।



