খুলনা
হেফজখানায় ৮ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক ‘পলাতক’

খুলনায় ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমির’ হেফজখানায় নির্যাতনের শিকার শিশু— সংগৃহীত
খুলনা মহানগরীতে ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমির’ হেফজখানায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকার এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহমান তার বাড়ির দোতলায় ওই মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। নিচতলায় তিনি পরিবারসহ বসবাস করেন। ওই আবাসিক হেফজখানায় প্রায় ২০ জন শিশুশিক্ষার্থী পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই শিশুশিক্ষার্থীকে আব্দুর রহমান শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে শিশুটির অভিভাবকরা ঘটনাটি জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে তার শরীর ও চোখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বাবা শিশুটিকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলে পরে দাবি করেছেন বাবা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে বা কীভাবে মধ্যস্থতা হয়েছে- তা জানাতে রাজি হননি তিনি।
স্থানীয়রা এ ধরনের গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগকে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আট বছরের শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনোভাবেই আড়াল করা উচিত নয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল বললেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান পালিয়ে যান।’
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। তিনি জানান, ‘আমরা শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





