ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ২২২
- আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে শিশুদের সর্দি কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা পাঁচ গুণ। বেড না পেয়ে হাসপাতালের সামনে শিশুদের নিয়ে গাছের নিচে বসে আছেন স্বজনরা। ছবি: আগামীর সময়
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুদের সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক শিশু। এতে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে গতকাল মঙ্গলবার ২২২ শিশু চিকিৎসাধীন। অনুমোদিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ। অতিরিক্ত রোগীর চাপে এক শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে রাখতে হচ্ছে। শয্যা না পেয়ে অনেকে বারান্দা ও মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু ওয়ার্ডে নতুন করে ৯৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যাই রোগীতে পূর্ণ। কোথাও এক শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। বারান্দা ও মেঝেতে পাটি বিছিয়েও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভিড়ে ওয়ার্ডে গাদাগাদি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মা ঝর্ণা বলেছেন, হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয় কয়েকটি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
শিশু ওয়ার্ডে সেবার চাপ নিয়ে অভিভাবক আনারুল ইসলাম বললেন, রাতে ২২০-২৩০ শিশুর সেবায় মাত্র দুজন নার্স দায়িত্ব পালন করেন। এত রোগীর সেবা দুজনের পক্ষে সামলানো কঠিন। দ্রুত জনবল বাড়ানো দরকার।
তবে শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স তাজনেহার বেগম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অধিকাংশ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হাসপাতালে মজুদ রয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজ্জাদ হায়দার শাহিন বলেছেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী থাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। হামসহ অতিসংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত ১৭১ জন। শূন্য রয়েছে ৮২টি পদ। প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের ৮৪টি পদের মধ্যে ৪২, তৃতীয় শ্রেণির ৪০টির মধ্যে ২০ এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৫টির মধ্যে ৮টি পদ শূন্য। নার্স ও সংশ্লিষ্ট ১০১টি পদের মধ্যে কর্মরত ৯১ জন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান বললেন, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে। শীত বাড়লে শিশুরোগীর চাপ আরও বাড়তে পারে। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।



