চাঁদপুরের ফিশ মিউজিয়াম
বিলুপ্ত ও বিরল মাছের অনন্য সংগ্রহশালা

ফিশ মিউজিয়াম
ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুরে রয়েছে মাছ নিয়ে এক ব্যতিক্রমধর্মী সংগ্রহশালা। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদীকেন্দ্রের ফিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়েছে ইলিশসহ তিন শতাধিক দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছের নমুনা। এখানে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায়, দুর্লভ ও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রজাতির মাছ, যা দেশের মৎস্যসম্পদ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে।
চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্রের ইলিশ ভবনের নিচতলায় গড়ে তোলা হয়েছে এই ফিশ মিউজিয়াম। দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত না হলেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মৎস্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এখানে এসে মাছের বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে জানছেন এবং গবেষণামূলক তথ্য সংগ্রহ করছেন।
চাঁদপুরের এই ফিশ মিউজিয়াম শুধু একটি সংগ্রহশালা নয়; বরং দেশের নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ইলিশের শহর চাঁদপুরে গড়ে ওঠা এই অনন্য মিউজিয়াম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদের ইতিহাস ও বৈচিত্র্য তুলে ধরছে নীরবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে প্রথমবারের মতো এই ফিশ মিউজিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় মৎস্য বিভাগের পরিচালক মো. ইউসুফ আলী এবং কর্মকর্তা এ কে আতাউর রহমান দেশের বিভিন্ন নদনদী ও জলাশয় থেকে নানা প্রজাতির মাছ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন। পরে সেই সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফিশ মিউজিয়ামে রূপ নেয়।
দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত এ সংগ্রহশালাকে আধুনিক রূপ দিতে ২০২৩ সালে নতুন করে মিউজিয়ামটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ করা হয়। বর্তমানে এখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ৩২৫টি বড় ও ছোট জার। প্রতিটি জারে কেমিক্যালের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজপ্রাণী।
মিউজিয়ামে সংরক্ষিত মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় মহাশোল, বিরল প্রজাতির জইয়া মাছ, রানী মাছ, গারুয়া, তারা বাইম, মধু পাবদাসহ অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির মাছ। এ ছাড়া সমুদ্রের হাঙর মাছ, ঝিনুক, বামশ মাছ, ইলিশ এবং বিভিন্ন মাছের ডিমও সংরক্ষণ করা হয়েছে বিশেষ পদ্ধতিতে।
এ বিষয়ে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ জানালেন, বর্তমানে ফিশ মিউজিয়ামে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২৫টি জারে বিভিন্ন মাছ সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরও জানালেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে যারা ফিশারিজ বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, তারা নিয়মিত এখানে আসেন। বাস্তবে মাছের বিভিন্ন প্রজাতি দেখে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারছেন এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরও জানালেন, আপাতত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মিউজিয়ামটি উন্মুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল। বর্তমানে জনবল-সংকট থাকায় সীমিত পরিসরে এটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে গবেষণার কাজে কর্মকর্তারা যখন নতুন বা বিরল কোনো মাছ সংগ্রহ করেন, তখন সেগুলোও এই মিউজিয়ামে যুক্ত করা হয়।




