বাবা হওয়ার একদিন পর নিখোঁজ, মিলল মরদেহ

সংগৃহীত ছবি
সন্তান জন্মের মাত্র একদিন পরই নিখোঁজ হন বাবা আলী হোসেন (২২)। দুদিন পর বাড়ি থেকে অল্প দূরে বর্ষার পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হলো তার মরদেহ।
মৃত আলী হোসেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে। তিনি ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর বাজারের একটি হোটেলে কাজ করতেন। পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করেও পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতা করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে আলী হোসেনের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। পরদিন শনিবার সকাল ১১টার দিকে বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য মাছ, মাংস ও অন্যান্য বাজারসামগ্রী কিনতে বের হন তিনি। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে গতকাল রবিবার এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।
আজ সোমবার সকালে মহাদেবপুর গ্রামে বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ গজ দূরে বর্ষার পানিতে অর্ধভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মৃতের বাবা আব্দুল আহাদ বললেন, ‘আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা বুঝতে পারছি না। বাড়িতে নবজাতক সন্তানকে রেখে বাজারে গিয়েছিল; কিন্তু আর জীবিত ফিরে আসেনি।’
মা হাসেনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘নাতি জন্মের খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে এসেছিলেন। ছেলে বাজারে গিয়েছিল, সেই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া।’
জানা গেছে, আলী হোসেন হোটেলে কাজ করার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন। তার বাবা আব্দুল আহাদ জীবিকার তাগিদে সুনামগঞ্জ, ভৈরব ও ঢাকা অঞ্চলে পণ্যবাহী নৌকায় কাজ করেন।
কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই দেলোয়ার হোসেন জানালেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মনতলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল কুদ্দুস আগামীর সময়কে জানালেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারের সময় মরদেহে পচন ধরার আলামত দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




