রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: নিহত বেড়ে ৮

উখিয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে অভিযান। ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় পাহাড় ধসে আরও তিন কিশোরীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মারা গেছে আট ছাত্রী। মাটিচাপা পড়া ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনকে ভর্তি করা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এসব নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা সেখানে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যেই হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। তারা হলেন— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) এবং উমাইসা বিবি (১৩)।
রাশিদা থাকত ক্যাম্প-৫-এর এ-১১ ব্লকে। তার বাবা হাসিম উল্লাহ ও মা রফিকা বেগম। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা দুই বোন। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুর ও মা সাদেকার মেয়ে। আর নিহত উমাইসা বিবি ক্যাম্প-৫-এর এ-৮ ব্লকের মোহাম্মদ ইলিয়াছের মেয়ে।
আহতদের মধ্যে আছে আসরা (৯), বেগম জান (১৫) ও ফারেসা বিবি (১২)।
ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. মোস্তাফা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দ্রুত বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাহাড়সংলগ্ন একটি কক্ষে থাকা কয়েকজন মাটিতে চাপা পড়ে।
ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। ঠিক তখনই পাহাড়ের মাটি ধসে ভবনের ওপর এসে পড়ে। তার অভিযোগ, মাটি ভরাট করে পাহাড়ের গা ঘেঁষে মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে একরাম (৭) নিহত হয়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার ভোররাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হন আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি। একই পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এদিন বিকালে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলমের ঝিরি এলাকায় পাহাড় ধসে ঘরের ভেতর মাটিচাপা পড়ে মারা যায় ৭ বছরের মিনহাজ।
এদিকে আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।





