শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

শাহজালালের মাজারে টাকা গণনা— সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। ৩৪ দিন পর আজ শনিবার মাজারের দানবাক্স ও ডেগের তালা খুলে এ টাকা গণনা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্স খুলে গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী দিনভর এ কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
গণনা শেষে সংশ্লিষ্টরা জানান, ৩৪ দিনে দানবাক্স ও ডেগে জমা পড়া নগদ টাকার পরিমাণ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এর সঙ্গে পাওয়া গেছে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রৌপ্য।
দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৩১ দশমিক ১১ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানের ৬০ রুপি, সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিংগিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম ২২ সেন্ট, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুরস্কের ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১ হাজার ডং, জাপানের ১ হাজার ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের ১০ পাউন্ড, মিশরের ১০ পাউন্ড, ৪০ সেন্ট ইউরো, বাহরাইনের ১ পয়সা এবং কানাডার ১ ডলার।
এ ছাড়া দানবাক্স থেকে বিভিন্ন চিঠি ও অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া গেছে। মাজারে নজরানা হিসেবে দেওয়া গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির হিসাবও কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে চলতি বছর দুই দফায় মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা করা হয়েছিল। গত ২২ জুন এবং ১১ জুলাই প্রকাশ্যে এসব দানবাক্স ও ডেগের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ ১১ জুলাই টাকা গণনার পর ৩৪ দিন পর শনিবার আবারও দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। এবারও প্রকাশ্যেই গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।







