‘ছেলেরা ওষুধ কেনার টাকা দেয় না, তাই গাঁজা বেচি’

পুলিশ হেফাজতে বৃদ্ধা জেসমিন বেগম— সংগৃহীত
‘আমি বয়স্ক মানুষ, খুব অসুস্থ। ছেলেরা ওষুধ কেনার টাকা দেয় না, তাই পেটের তাগিদে ও চিকিৎসার খরচের জন্য গাঁজা বেচি’— কাঁপা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পুলিশের হাতে আটক হওয়া ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জেসমিন বেগম।
তবে দারিদ্র্য ও চিকিৎসার অজুহাত থাকলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কামতা সওদাগর বাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ পুলিশ তাকে আটক করেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে স্থানীদের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটক জেসমিন বেগম ওই এলাকার রঞ্জন সওদাগরের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, জেসমিন বেগমের চলাচল বেশ কিছুদিন ধরে সন্দেহজনক ছিল স্থানীয়দের কাছে। এলাকাবাসী নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটকে রেখে ফরিদগঞ্জ থানায় খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধাকে হেফাজতে নেয় এবং তল্লাশি চালিয়ে তার কাছে রাখা প্রায় ২৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, ওষুধ কেনার কথা বলা হলেও জেসমিন বেগম মূলত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও চট্টগ্রামে একাধিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ জানান, কামতা এলাকায় এক বৃদ্ধা নিয়মিত মাদক বিক্রি করছেন- এমন খবরে তাকে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। অবশেষে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। বৃদ্ধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।







